কলকাতা 

কলকাতায় STEM Scholarship Distribution 2026, মেধাবী শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদান ও মহিলাদের Livelihood Development-এর জন্য আর্থিক সহায়তা

শেয়ার করুন

কলকাতা, ৩১ অক্টোবর: শিক্ষার প্রসার, মেধার বিকাশ এবং আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষায় উৎসাহিত করার পাশাপাশি মহিলাদের আর্থিকভাবে স্বনির্ভর করে তোলার লক্ষ্যে কলকাতার পার্ক সার্কাসের Hotel Park Inn, 10/1, Talbagan Lane, Kolkata-700017-এ অনুষ্ঠিত হলো ‘STEM Scholarship Distribution 2026’ ও Livelihood Development Cheque Distribution অনুষ্ঠান।

এই অনুষ্ঠানে কৃতী, মেধাবী ও আর্থিকভাবে অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের হাতে স্কলারশিপের চেক ও শংসাপত্র তুলে দেওয়া হয়। পাশাপাশি ক্যানিং ও জীবনতলা এলাকার বেশ কয়েকজন মহিলাকে জীবিকাভিত্তিক উন্নয়ন এবং স্বনির্ভর করে তোলার লক্ষ্যে আর্থিক সহায়তার চেক প্রদান করা হয়।

Taj and Zakir Syed Family Charitable Foundation Inc.-এর সহযোগিতায় এবং আমানত ফাউন্ডেশন ট্রাস্ট ও Joygram Social Welfare Society-র বাস্তবায়নে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানের সূচনা হয় মাওলানা তাহেরুল হকের পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত ও বাংলা তর্জমার মাধ্যমে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আমানত ফাউন্ডেশন ট্রাস্টের চেয়ারম্যান আলহাজ মুহাম্মদ শাহ আলম, সেক্রেটারি জালালউদ্দিন আহমেদ, ট্রেজারার মোহাম্মদ সালাউদ্দিন আহমেদ, কো-অর্ডিনেটর জিয়ারুল লস্কর ও সাহিদ হোসেন সিদ্দিকী।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন Joygram Social Welfare Society-র প্রেসিডেন্ট কল্যাণ সাহা, সেক্রেটারি আরিফুল্লা ইসলাম মণ্ডল, প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর আফসার গাজী, জনসেবা ক্রেডিট সোসাইটি লিমিটেড মাইক্রোফাইন্যান্সের প্রেসিডেন্ট গোলাম মোহাম্মদ লাডলা, রোহমা ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা আলহাজ ওমর খান, ইঞ্জিনিয়ার খায়রুল বাশার মণ্ডল, Cloud Captain-এর প্রতিষ্ঠাতা খালিদ ফজলুল্লাহ-সহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।অনলাইন গুগল মিটের মাধ্যমে অনুষ্ঠানে যুক্ত হন Taj and Zakir Syed Family Charitable Foundation Inc.-এর চেয়ারম্যান সৈয়দ তাজ সাহেব। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ট্রাস্টের সদস্য, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।

অনুষ্ঠানে বক্তারা আধুনিক যুগে ক্যারিয়ার গঠন, উচ্চশিক্ষার সুযোগ, দক্ষতা উন্নয়ন এবং কর্মমুখী শিক্ষার গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করেন। বিশেষ করে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, ইঞ্জিনিয়ারিং ও গণিত (STEM) শিক্ষার প্রসারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়।

অনলাইনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে সৈয়দ তাজ STEM Scholarship কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য এবং শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ গঠনে এই উদ্যোগের গুরুত্ব তুলে ধরেন। আলহাজ ওমর খান উচ্চশিক্ষা অর্জনের প্রয়োজনীয়তা এবং শিক্ষার্থীদের স্বপ্নপূরণে অধ্যবসায়ের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করেন। অন্যদিকে, খালিদ ফজলুল্লাহ ও ইঞ্জিনিয়ার খায়রুল বাশার মণ্ডল শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে ক্যারিয়ার গঠনের বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দেন।

কল্যাণ সাহা এই মহতী উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন। আরিফুল্লা ইসলাম মণ্ডল STEM Scholarship-এর জন্য আবেদন করার পদ্ধতি, আবেদনপত্র পূরণের নিয়ম এবং আবেদন প্রক্রিয়ায় সম্ভাব্য ভুলত্রুটি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেন। আফসার গাজী এই ধরনের একটি শিক্ষামূলক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করতে পেরে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতে আরও বেশি সংখ্যক শিক্ষার্থীর কাছে এই উদ্যোগ পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানান।

জনসেবা ক্রেডিট সোসাইটি লিমিটেড মাইক্রোফাইন্যান্সের প্রেসিডেন্ট গোলাম মোহাম্মদ লাডলা তাঁর বক্তব্যে শিক্ষার্থীদের আর্থিক সচেতনতা, স্বনির্ভরতা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার গুরুত্ব তুলে ধরেন। মোহাম্মদ সালাউদ্দিন আহমেদ শিক্ষার পাশাপাশি সমাজে শান্তি, সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।

আমানত ফাউন্ডেশন ট্রাস্টের চেয়ারম্যান মুহাম্মদ শাহ আলম তাঁর বক্তব্যে জানান, ১৯৮৮ সালে বায়তুজ জাকাত হিসেবে যাত্রা শুরু করে পরবর্তীকালে আমানত জাকাত মিশনের মাধ্যমে আমানত ফাউন্ডেশন ট্রাস্ট গত ৩৭ বছর ধরে মেধাবী ও আর্থিকভাবে অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদান করে আসছে। তিনি এই উদ্যোগ সফল করতে সহযোগিতাকারী সকল অতিথি, প্রতিষ্ঠান ও সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

ট্রাস্টের সেক্রেটারি জালালউদ্দিন আহমেদ বলেন, “শিক্ষা শুধু ডিগ্রি অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং সমাজ ও জাতির প্রতি দায়িত্ববোধ জাগ্রত করার অন্যতম মাধ্যম। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের তরুণ-তরুণীদের উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে নানা প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। এই বাধা অতিক্রম করতে আত্মবিশ্বাস, সঠিক দিকনির্দেশনা এবং নিয়মিত অধ্যবসায় প্রয়োজন।”

তিনি আরও বলেন, নতুন প্রজন্মকে নিজেদের দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন হতে হবে এবং সমাজের উন্নয়নে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে।

অন্যদিকে, আমানত ফাউন্ডেশন ট্রাস্টের কো-অর্ডিনেটর সাহিদ হোসেন সিদ্দিকী ও জিয়ারুল লস্কর ট্রাস্টের এই মহতী উদ্যোগের প্রশংসা করেন। তাঁরা বলেন, আর্থিক প্রতিবন্ধকতার কারণে যাতে কোনো মেধাবী শিক্ষার্থীর উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন থমকে না যায়, সে জন্য সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ ও প্রতিষ্ঠানকে এগিয়ে আসতে হবে।

শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানো এবং তাঁদের উচ্চশিক্ষার পথ সুগম করার ক্ষেত্রে এই ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে কৃতী, মেধাবী ও আর্থিকভাবে অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের হাতে স্কলারশিপের চেক ও শংসাপত্র তুলে দেওয়া হয়। পাশাপাশি ক্যানিং ও জীবনতলা এলাকার মহিলাদের জীবিকা উন্নয়নের জন্য আর্থিক সহায়তার চেক প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন জালালউদ্দিন আহমেদ। অনুষ্ঠানের শেষে মোহাম্মদ শাহ আলম সাহেব ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন এবং উপস্থিত সকল অতিথি, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, সহযোগী প্রতিষ্ঠান ও আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

শিক্ষার প্রসার, মেধার বিকাশ, STEM শিক্ষার প্রতি নতুন প্রজন্মকে উৎসাহিত করা এবং মহিলাদের আর্থিকভাবে স্বনির্ভর করে তোলার লক্ষ্যে আমানত ফাউন্ডেশন ট্রাস্টের এই উদ্যোগ বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। এই ধরনের বৃত্তি ও জীবিকাভিত্তিক সহায়তা কর্মসূচি শিক্ষার্থীদের স্বপ্নপূরণ, উচ্চশিক্ষা অর্জন এবং মহিলাদের স্বনির্ভর নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা প্রকাশ করেন উপস্থিত বিশিষ্টজনেরা।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ